বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে কথা। গান দু-এক কলি ভেসে আসে। ওই কাঁসাই, হলুদ বালিতে কোন চিত হয়ে আছে নারী।এমন ঢাল, কোথাও একটু ঘোলা জলে সূর্য।।করিমপুর ছাড়িয়ে চারিদিক পাট ছড়িয়ে সব আলো হয়ে উঠল বাংলাদেশের ঘ্রাণে। সারিন্দা হাতে গান গেয়ে গেল জীবনভোর ভাসতে থাকা কিছু মানুষ। সবুজ ক্ষেতের উপর বুড়ো বক উড়ে গেল কোন বিষ মাখান মাছটার কথা মনে করে।
আমার ঝুলির ভেতেরে বাংলার গান আর অভিমান জমা হয়ে আছে।কাটোয়ায় রনপায়ের দল লম্বা লম্বা পা ফেলে চলে গেল তার মায়ের মৃত্যুসাংবাদের দীর্ঘ ছায়া ফেলে। সারাদিন জুড়ে নকশা।ঘোড়া নাচের দলের ব্যবস্থা হোল কোনক্রমে। গালিচার মত ধান ক্ষেত জুড়ে লাল ঘোড়া ছুটে গেল। দূরে বাউলের মাচায় যে ভাবে সন্ধ্যা নামে ঠিক সেই ভাবে আমি নেচে উঠি।
পুরুলিয়ায় ছৌ-নাচের দলের পিছনে আমি গড়ে তুলি এক মস্ত কারখানা। আর সব শুনসান।বুকের ভিতর শব্দ সব ছাতু করে দিলে বাঘমুন্ডি পাহাড়ের নিচে অবিন্যস্ত জলাশয়ে সবুজ পাতার উপর একে একে বসিয়ে নিচ্ছি পদ্ম ফুলগুলো। আমি ক্রমশ পাল্টে যেতে শুরু করেছি। হয়ত পাল্টাই প্রতিনিয়ত, টের পাই না।এখন লেখার সময় নয়। ছুটে চলেছি হারিয়ে যাওয়া কথা আর ছিন্ন গানের চাঁদমালায়। আমার দেহ ভেঙে মিশে যাচ্ছে প্রকৃতিতে, আর রক্তবীজের মত জন্ম নিচ্ছে নতুন নতুন গান। সুন্দরবনে জল নেমে গেলে যখন বাদ্যযন্ত্রের মত শিকড়েরা জেগে উঠল,আমি বিধ্বস্ত শরীরেও কিছুটা গান হয়ে উঠলাম
Showing posts with label চিন্তা ভাবনা. Show all posts
Showing posts with label চিন্তা ভাবনা. Show all posts
Monday, November 26, 2007
লোকে বলে, বলে রে ঘর বাড়ি বালা না আমার
ফ্যানের ব্লেডসকল রাষ্ট্রসকলের দখলদারির অধিক যে মিমাংসার সূচনা করে কোকাকোলার বোতল তাতে নির্লিপ্ত। আগুনের গনগনে শিখা হোল্ডলে গুটিয়ে ট্রেনে চেপে বসলে তার শেষে আছে এক পার্বত্য উপত্যকা। ঝর্ণা, কুয়াশা, মেঘ সব আছে নাচও আছে, গানও আছে, মেষশাবকদের পিছে ছুটে চলা তরুনীর আগে উড়ে যায় শতাব্দী বাতিল প্লাষ্টিকের ঠোঙা।
বহুদিন পাহাড়ে যাই না। স্রোতের কোন মীমাংসা নেই। খুব ভোরে আঁচ দেওয়া উনুনের ধোঁয়ারা বন্ধ জানালার কাঁচে কুয়াশার মত এঁকে দেয় স্মৃতি। যমপটে বাঁকিয়াছে চোখটুকু আঁকা। অজয়ের দুইপারে তুলির গাভীর টান আর সরু জলে মাছেদের মত খেলা করে রূপসী চাঁদেরা। ভাত রান্নার আগে করতোয়া উঁকি মারে কোন কাব্যসমগ্র থেকে।
কোকাকোলা থেকে গেল অবিচল। খোকা বুড়ো হল, কে কাকে বেল্লিক বলল, বিপক্ষের উল্লুক পাটকেলে ঘায়েল হয়ে অবশেষে খালাসিটোলার অস্ত্রাগারে ঝাঁপ দিল পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে। পিকাসোর পুরু গোঁফের তলা দিয়ে যখন বরযাত্রী পৌঁছাল কোন এক কুয়াশার ঘুন ধরা পাহাড়ী শহরে, দিদিশাশুড়ির পিসতুতো বোনের ছোট ননদ এক বোতল কোকোকোলা নিয়ে সবাইকে ঢেলে দিতে লাগল প্লাষ্টিকের অস্বচ্ছ সাদা গ্লাসে। মাংসের গন্ধ মিলে মিশে অন্ধকারকে করে তুলল আরো কালো ঘন।
রাত্তির একটার পরে যখন দরকার পড়ল আরও একটা কম্বলের, কারো চুল থেকে খসে পড়া আধ শুকনো বেলফুলের মালা কিছুতেই আর বাগ মানতে চাইল না। অজয়ের দুই তীর ভর্তি বালি বারে বারে পা টেনে দহরছে সুগন্ধের মত। বরযাত্রীদের দেওয়া গোলাপের একটা একটা করে পাপড়ি খসে সকাল হচ্ছে, পিকচার পোষ্টকার্ডের মত।
এ অবস্থায় বেশি বড় লেখা সম্ভব না। বেশিক্ষণ সম্ভব না রাত্রিকে ধরে রাখা। কম্বল না পেয়ে সারারাত চরে বেড়াতে হল চরে। কিছুতেই সেই ফ্যানের ব্লেডগুলির সংঘর্ষের মধ্যে যদিও সে পাহাড়ে তা ছিল টাওয়ারহীন। তবুও মানুষের আশা বেঁচে থাকে হাঁটাচলার মধ্যে। এই লেখাটা আর কিছুতেই বড় করা যাচ্ছে না। সকাল হয়ে যাওয়ার আগেই কোকোকোলার খালি বোতলে ঠোক্কর লেগেছে পায়ে, ছিপি গড়িয়ে গেছে পায়ে আর বুদ্ধের চারপাশে সুজাতার মত ভোদকার একটা সুন্দর ফ্লেভার উঁকি মেরে যাছ্ছে সারা অজয় জুড়ে। ফুলগুলোর কথা মনে পড়ে না। তারা কবে পচে মরে কথাসরিত সাগরের মত ভেসে গেছে পলিও আক্রান্ত অজয় বরাবর।
বহুদিন পাহাড়ে যাই না। স্রোতের কোন মীমাংসা নেই। খুব ভোরে আঁচ দেওয়া উনুনের ধোঁয়ারা বন্ধ জানালার কাঁচে কুয়াশার মত এঁকে দেয় স্মৃতি। যমপটে বাঁকিয়াছে চোখটুকু আঁকা। অজয়ের দুইপারে তুলির গাভীর টান আর সরু জলে মাছেদের মত খেলা করে রূপসী চাঁদেরা। ভাত রান্নার আগে করতোয়া উঁকি মারে কোন কাব্যসমগ্র থেকে।
কোকাকোলা থেকে গেল অবিচল। খোকা বুড়ো হল, কে কাকে বেল্লিক বলল, বিপক্ষের উল্লুক পাটকেলে ঘায়েল হয়ে অবশেষে খালাসিটোলার অস্ত্রাগারে ঝাঁপ দিল পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে। পিকাসোর পুরু গোঁফের তলা দিয়ে যখন বরযাত্রী পৌঁছাল কোন এক কুয়াশার ঘুন ধরা পাহাড়ী শহরে, দিদিশাশুড়ির পিসতুতো বোনের ছোট ননদ এক বোতল কোকোকোলা নিয়ে সবাইকে ঢেলে দিতে লাগল প্লাষ্টিকের অস্বচ্ছ সাদা গ্লাসে। মাংসের গন্ধ মিলে মিশে অন্ধকারকে করে তুলল আরো কালো ঘন।
রাত্তির একটার পরে যখন দরকার পড়ল আরও একটা কম্বলের, কারো চুল থেকে খসে পড়া আধ শুকনো বেলফুলের মালা কিছুতেই আর বাগ মানতে চাইল না। অজয়ের দুই তীর ভর্তি বালি বারে বারে পা টেনে দহরছে সুগন্ধের মত। বরযাত্রীদের দেওয়া গোলাপের একটা একটা করে পাপড়ি খসে সকাল হচ্ছে, পিকচার পোষ্টকার্ডের মত।
এ অবস্থায় বেশি বড় লেখা সম্ভব না। বেশিক্ষণ সম্ভব না রাত্রিকে ধরে রাখা। কম্বল না পেয়ে সারারাত চরে বেড়াতে হল চরে। কিছুতেই সেই ফ্যানের ব্লেডগুলির সংঘর্ষের মধ্যে যদিও সে পাহাড়ে তা ছিল টাওয়ারহীন। তবুও মানুষের আশা বেঁচে থাকে হাঁটাচলার মধ্যে। এই লেখাটা আর কিছুতেই বড় করা যাচ্ছে না। সকাল হয়ে যাওয়ার আগেই কোকোকোলার খালি বোতলে ঠোক্কর লেগেছে পায়ে, ছিপি গড়িয়ে গেছে পায়ে আর বুদ্ধের চারপাশে সুজাতার মত ভোদকার একটা সুন্দর ফ্লেভার উঁকি মেরে যাছ্ছে সারা অজয় জুড়ে। ফুলগুলোর কথা মনে পড়ে না। তারা কবে পচে মরে কথাসরিত সাগরের মত ভেসে গেছে পলিও আক্রান্ত অজয় বরাবর।
যেতে যেতে তোমার দুয়ার হতে
ক্লান্ত। এর বেশিকিছু নয়। এখন লেখার কথা নয়। এ তো নেহাত কথার কথা। পারলে কি বোর্ড বালিশ হয়ে পড়ে, চোখের উপর আবার ভর করছে ছোটবেলার উড়োজাহাজ।
আমাদের স্পেস ক্রাফট, সেই টগরগাছ। ভাঙা সাইকেলের প্যাডেল-চেন নিয়ে হামেশাই উড়ে যায়। কবে যেন স্পেস পাই না, সে টগর গাছ হয়ে পড়ে, বড় হয়ে যাই। স্পেস বার সম্বল।
সমুদ্রতটে একাকী নাগরদোলা ঘুরে চলেছে। যে পাখি জানালার বাইরে এই ডাকল সেও মমি হয়ে গেল। পাঁউরুটি সাজানো পিরামিড। হলুদ বালি। একা নাগরদোলা, ঘুরছে।
নেশা করতেও ইচ্ছা করছে না। ফ্রিজে সারসার বোতল। চুমুক দিলে মোসেন ম্যাকম্যালবাফের গাববেটা দেখে ফেলা যাবে। পায়ের তলায় মনে হচ্ছে চিনির দানা, পাও খুব হালকা পিঁপড়ের মত।
টিভি জুড়ে ধুসরতা। বন্ধ। উপরের তাকে বই সারমর্মের মত সাজানো। ঘুমের ঘোরে কত কি লেখা হয়! আমিও লিখি, কাজে যাই, মদ ছুঁই না। আমি ভালো ছেলে।
পলা সেনগুপ্তের ছবিটা হেলে আছে, একপাশে। আমার মস্তিস্কের মত। মরনকূপে মটোরসাইকেল হেলে ভারসাম্য রাখছে। একটা সিগারেট ধরাই।এঁকে বেঁকে উড়ে যাক ধোঁয়া, ঐ জানালার বাইরে। আমি এখন যেতে পারবো না।
আমাদের স্পেস ক্রাফট, সেই টগরগাছ। ভাঙা সাইকেলের প্যাডেল-চেন নিয়ে হামেশাই উড়ে যায়। কবে যেন স্পেস পাই না, সে টগর গাছ হয়ে পড়ে, বড় হয়ে যাই। স্পেস বার সম্বল।
সমুদ্রতটে একাকী নাগরদোলা ঘুরে চলেছে। যে পাখি জানালার বাইরে এই ডাকল সেও মমি হয়ে গেল। পাঁউরুটি সাজানো পিরামিড। হলুদ বালি। একা নাগরদোলা, ঘুরছে।
নেশা করতেও ইচ্ছা করছে না। ফ্রিজে সারসার বোতল। চুমুক দিলে মোসেন ম্যাকম্যালবাফের গাববেটা দেখে ফেলা যাবে। পায়ের তলায় মনে হচ্ছে চিনির দানা, পাও খুব হালকা পিঁপড়ের মত।
টিভি জুড়ে ধুসরতা। বন্ধ। উপরের তাকে বই সারমর্মের মত সাজানো। ঘুমের ঘোরে কত কি লেখা হয়! আমিও লিখি, কাজে যাই, মদ ছুঁই না। আমি ভালো ছেলে।
পলা সেনগুপ্তের ছবিটা হেলে আছে, একপাশে। আমার মস্তিস্কের মত। মরনকূপে মটোরসাইকেল হেলে ভারসাম্য রাখছে। একটা সিগারেট ধরাই।এঁকে বেঁকে উড়ে যাক ধোঁয়া, ঐ জানালার বাইরে। আমি এখন যেতে পারবো না।
Labels:
চিন্তা ভাবনা,
দিনপঞ্জী,
ব্লগ ব্লগানি,
লেখা-লেখি
Subscribe to:
Posts (Atom)