Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts
Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts

Sunday, August 15, 2010

কতিপয় শুভেচ্ছাবিন্দু

বই বেরলে আরও হতাশ হয়ে যাই স্যালাইনের বোতলে দু একটা বুড়বুড়ি ছিটকে পড়া রক্ত ক্রমশ জমাট বাঁধছে কালোর দিকে সেই এক গুহার ভেতর চতুরঙ্গের দৃশ্যপট

আজকাল রৌদ্রে বর্ণমালা অচেনা লাগে চিনা-জাপানি অক্ষর বেশ ছবির মত কোথাও বা ইমারত ভেবে নিচ্ছি, ঠিক পরিচিত এথেন্স আমার লেখাগুলো মুছে যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রবল বৃষ্টিতে, আর দু একটা সাদা পাতা এসে পৌঁছায় খাবার টেবিলে, কদাচ

এখন বই মানে কতিপয় এস এম এস'এ শুভেচ্ছাবিন্দু, কতগুলি পিঁপড়ে সেই প্রবল ঝড় তুচ্ছ করে হেঁটে যাচ্ছে রাজধানী বরাবর, একে একে স্টেশনগুলি হিরণদা ও ধ্রুব এষ ভেঙ্গে নেপোলিয়ান ও মেজর জিয়া হয়ে পড়ছে

আমার ভাবনা চিন্তা সব জমে যাচ্ছে অমলেটের মত বুঝি আর নিস্তার নেই, এবার লিখতেই হবে, খনিজ আর জলে ভরা একটা গোটা পৃথিবী

Monday, November 26, 2007

লেখালিখির আগে আমরা, কি ভালো দিন কাটাইতাম

তিনি বললেন,আগে কি ভালো দিন কাটাইতাম, তিনি আছেন লন্ডনে, সিলেটিরা নিয়ে গেছে ঐ যেন পুষ্পকরথ,আর জেটপ্লেনের সাদা ধোঁয়া ভিক্টোরিয়ান ব্রাশিংএর মত মুখ বুজে পড়ে থাকা গুটানো ল্যাজের কুকুর, নীল আকাশ আমার জামা হয়ে বুকে বুকে ঘোরে,বৃষ্টি ভিজে মুখ গোমড়া করে আঁকড়ে ধরেছে নিওলিথ শরীর, রঙিন বর্ষাতিতে কিন্ডারগার্ডেনের সামনে শামুকের মত লুকিয়ে রাখা কচি শরীর ও বিশেষত স্তুনগুলি ফুটে উঠছে এক সীমাহীণ সবুজ পুকুরে।

আমার বিষন্ন লাগে,পুকুরেরও। দুজনে বসে বৃষ্টিতে ভিজি বা ভিজি না।আমার সাদা কালো জামা ভেঙে চুরে ইমরুলের বইএর মলাট হয়ে যায়, তখন আমি কালিকাপ্রসাদের কথা ভাবি, আ্যমোনিয়া প্রিন্ট ও পর্চা সকল তাদের জারিজুরি শেষে কোন লোহার আলমারির ভেতর শেখ হাসিনা হয়ে যায়, সে মলাটের পেছনে কালীকাপ্রসাদ ছেপে দেয় কি ভাবে,বা একপাতা ন্যাপা। আমি বসে থাকি, লবুপাতার গন্ধ আর নয়ডা সেক্টর ১৮ এর শনিবাজারের সেই নতুন আখেরগুড়ের ম ম গন্ধের গরুরগাড়ির কথা মনে পড়ে যায় হটাত যেন, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় একদিন সেই ছিপ হাতে নেমে গেলেন পুকুরে বর্ণমালার পানা সরিয়ে সরিয়ে, আমি তবু বসে থাকি। আলফা বিটা আসে দুপুরের পর , বৃষ্টির মত তারা প্রতি বছরই আসতে দেরি করে, যেমন রাত দিনের শুরুতেই আসে না।তাই অভিমানে আমরা কথা বলি না। অথচ সম্পৃতি, সার সার সবাই বসে, জলে মাছ চুপচাপ, সমবেত শোক মিছিলের মাঝে ট্রটোস্ফিয়ার থেকে দু-এক কলি বিদ্যুত উড়ে আসে।

আসলে আমরা সকলেই লিখে চলেছি ক্রমাগত, বৃষ্টির ভারে কুঁকড়ে যাওয়া এক অগভীর , যে দৃশ্যত সীমাহীণ পুকুরে তারা কচুরিপানা হয়ে কইমাছগুলোকে আড়াল করে রাখছে প্রতি নিয়ত।

বাংলাদেশ? আবার জিগায়।

ইঁটের মত দেওয়াল ছিল, ডিভিডির প্রহরীসজ্জায়, আর ঝলমলে ঠান্ডা আলো, শপিং মলগুলি আমাদের লাশকাটা ঘরের মত,ছিল কাক ছাড়া রমনা সবুজ সিএনজি অটোগুলি বৃষ্টিভেজা চাড়াই এর মত দু-একটি আমাদের বিক্ষিপ্ত আড্ডায়, পান্থপথের ঘরে বা চারুকলায়।

আমরা শবর-শবরী,জ্যামের রেলিংএ ঘেরা ধানমন্ডি ৩২ এর সার বাঁধা রিক্সার উপরে দেখি হেলিকাপ্টারের চক্কর, জলে ভেসে আসা জিয়ল মাছের মত ক্যাব বলতে পেলাম পারমানেন্ট এর দই আর রসের রসমালাই, এখন মরণচাঁদ মরণশীল,তাই আমি খুঁজিতে যাই না আর,তবু সেই এলিফ্যান্ট রোড গীতালি নামের জং ধরা দোকানে আমার হৃৎপিন্ড বাঁধা থাকে বিকালে অবশেষে। আর জোসেফ বসেজের মত হাত নাড়তে নাড়তে বসুন্ধরা সিটির পিছনের চিংড়ি মাছের মাথারা থাকে থাকে আছে ডিভিডির মত,তবু জোড়ায় জোড়ায় প্রাইভেট ইউভার্সিটি রিস্ট ওয়াচের মত, আমার সর্বাঙ্গে জল, ঐ হাজারে কাতারে হাজার ছাড়ানো ইলিশ মাছ ভিজে যাওয়া ঢাকাকে দ্য প্রফেটের মত একমিছিলহীণ শহর বানিয়ে দেয়, সেখানে ঘোড়া কেবল উড়ে যায় ডানা মেলে, জয়েস থাকলে বলতেন সূর্যের দিকে।

কলাবাগান জুড়ে এখনও ফেরিওলার মাদারি ডাক,আর কুমিল্লার পথে ডুবে যাওয়া রাস্টাঘাট,ক্ষেপটান জাল আর এক মানুষের মত শরীর নিয়ে মৃণালিনী মুখোপাধ্যায়ের ভাষ্কর্যের মাছ ধরার খাঁচা আমি দর করি, সে এক মৎসগন্ধা সময়, আর মোবাইলে ধরে রাখি সবুজ স্তনের ভাটিয়ারি । আর পতেঙ্গার সার সার ফ্ল্যাগ ওড়ানো ওপেন এয়ার ষ্টুডিও,কর্ণফুলির বেলুনওয়ালারা বন্দুক নাচায়, ঐ দ্বীপ আনোয়ারা, সে ত আমার বন্ধু মারিয়ার কথা আমার নয়,তাই ওই ঢেউ আমার ন্য়, আমি কেবল ডুবে যাই,ডুবে যেতে হাত বাড়াই, বাংলাদেশের সে রাজকন্যা কাঠির বদলেও ঘুম থেকে ওঠে না।